যেভাবে ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা করবেন

ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা

ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা : ক্যারিয়ার মানবজীবনে খুবই গুরত্বপূর্ণ।ক্যারিয়ারে সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে জীবনে অনেক পস্তাতে হয়।নিচের লেখাগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আপনাকে ক্যারিয়ারের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। আসুন দেখে নেওয়া যাক-

সঠিক ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা : চাকুরি সন্ধান কর্মপরিকল্পনার ৬টি ধাপ

  • নিজেকে মূল্যায়ন করা
  • ক্যারিয়ারের লক্ষ্যসমূহ গবেষণা করা
  • পরিকল্পনা প্রণয়ন করা
  • নিজ-বিপনী ( Self Marketing ) কৌশল নির্ধারণ করা
  • চাকুরির সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা
  • বাধাবিপত্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা

১. নিজেকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা:

  • আমার মূল্যবোধগুলো কি কি?
  • সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন বিষয়গুলো আমাকে প্রভাবিত করছে?
  • এর উদ্দেশ্য কি? ব্যতিক্রমি কিছু করা নাকি কেবল অর্থ উপার্জন ? মনোযোগের কেন্দ্রে থাকার ইচ্ছা নাকি অন্যকে সাহায্য করার ইচ্ছা?
  • আগামী কয়েক বছরে আমার উদ্দেশ্য ও প্রাধান্যগুলো কি কি? আজ থেকে পাঁচ বছর পর আমার পরিকল্পনা কি?
  • আমার প্রধান শক্তিগুলো কি?
  • কি আমার জীবনকে অর্থপূর্ণ করে? আমার উদ্দেশ্য কি?
  • আমার জীবন দর্শনে কর্মের স্থান কোথায়?

২. নিম্নোক্ত উপায়ে ক্যারিয়ার লক্ষ্যসমূহ গবেষণা করা:

  • আপনার পছন্দনীয় কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করুন ।
  • আপনি কাজ করতে পছন্দ করেন অথবা আপনার কাজের প্রস্তাব রয়েছে এরূপ প্রতিষ্ঠান বিশেষণ করুন।

Read: Career Tips

কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ:

  • কোন ধরনের পণ্য অথবা সেবা এই প্রতিষ্ঠান প্রদান করে থাকে?
  • প্রধান কর্মক ও সম্ভাবনাময় ব্যক্তি কারা?
  • এই খাতের/ শিল্পের কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের প্রধান নিয়ামকগুলো কি কি?
  • ভবিষ্যতে এ খাতে লোক নিয়োগের সম্ভাবনা কতটুকু?
  • কোন ধরনের প্রতিভাকে এ খাত আকর্ষণ ও নিয়োগ করে এবং এ খাতে কোন ধরনের লোক প্রয়োজন?

প্রতিষ্ঠান বিশেষণ:

  • এ খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চাইতে এ প্রতিষ্ঠান আলাদা কেন?
  • এ প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও প্রাধান্যগুলো কি কি?
  • এ প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি (এম. ডি., সি.ই.ও, সি.এফ.ও এবং সি.ও.ও) এবং তাদের লক্ষ্য কি কি?
  • কর্মচারীদের সাথে এ প্রতিষ্ঠানের আচরণ কেমন?
  • প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে কেমন?
  • সেখানে কাজের পরিবেশ কেমন?

৩. পরিকল্পনা প্রণয়ন:

  • আপনার পছন্দনীয় প্রতিষ্ঠান ও ভূমিকায় আপনার অবস্থানের বাস্তবসম্মত বিচার বিশেষণের মাধ্যমে চাকুরির বিকল্পগুলো খুঁজে বের করুন।
  • প্রাধান্য নির্ধারণ করুন এবং তা বাস্তবায়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন করুন
  • প্রধান পছন্দনীয় প্রতিষ্ঠানের লোক নিয়োগ সময়ের ভিত্তিতে চাকুরি সন্ধানের সাধারণ সময় নির্ধারণ করুন।

 

৪.নিজ বিপনী কৌশল প্রণয়ন:(Self-marketing strategy):

  • পণ্য (Product) : ভোক্তাকে (সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা) দেয়ার মত কোন কোন দক্ষতা ও যোগ্যতা আপনার রয়েছে?
  • মূল্য (Price): চাকুরির বাজারে আপনার মূল্য কতখানি? আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা কি চাকুরির বাজারে আপনাকে অতি সমাদৃত পণ্যের স্থান দেয়, নাকি আপনার কাংখিত প্রতিষ্ঠানের দরজায় পৌছুতে আপনাকে কিছুটা ছাড় দিয়ে শুরু করতে হবে?
  • বিপণন (Promotion) : কোন ধরনের বক্তব্য বা বিষয়বস্তু আপনার পেশাগত দক্ষতাকে তুলে ধরে?
  • পরিবেশন (Place): আপনি চাকুরির বাজারে কিভাবে নিজেকে পরিবেশন করবেন? সম্ভাব্য চাকুরিদাতাদের কাছে নিজেকে তুলে ধরার বহুবিধ মাধ্যম ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করুন। এর মধ্যে রয়েছে তাত্ক্ষনিক নিয়োগ, চাকুরির বিজ্ঞাপন (পত্রিকা অথবা অনলাইন জব সাইট্ ), চাকুরি মেলা (Job fair) , কোম্পানির ওয়েবসাইট, নিয়োগদাতা কর্মকর্তাদের সাথে এবং চেনাপরিচিতদের মাধ্যমে যোগাযোগ।

অবস্থান তৈরি (Positioning): কোন দিক থেকে আপনি অন্যান্য চাকুরিপ্রার্থীদের চেয়ে পৃথক? আপনার দক্ষতা, অতীত ও আগ্রহ কিভাবে আপনাকে পৃথক করে?

জীবনবৃত্তান্ত, কভার লেটার যোগাযোগ মাধ্যমই আপনার বিপণন হাতিয়ার

Resumes, cover letters, and your network are your marketing tools.

Read More : Best CV Writing Tips for New Job Seekers

৫. চাকুরির সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি:

  • পূর্ব থেকেই উক্ত শিল্প ও এর প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে খোঁজখবর করুন।
  • আপনি কি চাচ্ছেন কোন বিষয়টি আপনার নিকট গুরুত্বপূর্ণ ও কেন আপনি এ সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন তা জানুন।
  • আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, মেধা ও শক্তির কতখানি আপনি দিতে পারবেন তা জানুন।
  • আপনাকে কি ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে তা অনুমান করুন।
  • অনুশীলন, সংশোধন ও আরো অনুশীলন করুন।
  • সাক্ষাৎকারে সময়মত উপস্থিত হোন, আগ্রহ ও পেশাগত মনোভাবের পরিচয় দিন।
  • যদি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী পরবর্তী ধাপ ও নিয়োগের সময় সম্পর্কে কোন আলোচনা না করে, তবে তা জিজ্ঞাসা করুন।
  • প্রতিটি সাক্ষাৎকারের পর নিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করুন। আপনি কোন কাজটা ভাল করলেন এবং কোন কাজটা ভাল হল না তা বোঝার চেষ্টা করুন।

৬.বাধাবিপত্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

  • আপনার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবার সাথে সাথে মধ্যবর্তী সংশোধন এবং ফলাফল আরও ভাল করার জন্য পূর্বপদক্ষেপ মূল্যায়ন করুন।
  • নিম্নোক্ত প্রশ্নাবলী জিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেকে মূল্যায়ন করুন।
  • কোন কাজটি ভাল হচ্ছে এবং কোনটি হচ্ছে না?
  • কোথায় আমাকে উন্নতি করতে হবে?
  • কোন ধরনের সাহায্য বা পরামর্শ আমার প্রয়োজন?
  • সাহায্য, যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমি কোথায় যাব?
  • আমার কর্মসম্পাদনে কোথায় গলদ রয়েছে যা সংশোধন করা প্রয়োজন?
  • আমার অবস্থানের উন্নয়নে কিভাবে আমি মোটিভেশন ধরে রাখতে পারব?

পরিশেষে বলতে চাই,পুরো লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন।সত্যিই যদি এগুলো আমাদের ক্যারিয়ারে সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা যায় তাহলে জীবনে সফলতা নিশ্চিত।তাই প্রত্যেক মানুষেরই সচ্ছ ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা থাকা উচিৎ ।

তথ্যসূত্রঃ বিডিজবস

 

পোষ্টটি ফেইসবুকে শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন ...