জেনে নিন ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ কি?

ব্যক্তিত্ব

ব্যক্তিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই। এটা আমরা কেউ অনুভব করতে পারি, কেউ পারি না। কেউ গুরুত্ব দেই, কেউ দেইনা।কিন্তু ব্যক্তিত্বের মাধ্যমেই একটি আদর্শ মানুষ হিসেবে জানা যায়। তাই আসুন ব্যক্তিত্ব কি ,কেন দরকার, কিভাবে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবো সব কিছুর বিস্তারিত জেনে নেই।

মানুষের জ্ঞান, বিশ্বাস, আচার-আচরণ, রুচী, অভ্যাস ইত্যাদি মিলিয়ে তার ব্যক্তিত্ব।

ব্যক্তিত্ব হল কার্যকরী সম্পদ……–হারর্বার্ড ক্যাশন

✅ব্যক্তিত্ব কি..?

ব্যক্তি জীবনের ব্যক্তিত্বের সীমারেখা নির্ধারিত হয় কথাবার্তায়, আচার-আচরণে, চালচলনে, ধ্যান-ধারণায় ও মন-মানসিকতায়।

ব্যক্তিত্ব হলো —–

  • সাফল্যের চাবীকাঠি
  • চৌম্বক শক্তি
  • অগ্রণী শক্তি বা এগিয়ে নেয়ার শক্তি
  • মানুষের চালনা শক্তি
  • একটি আদর্শ, একটি দর্শন
  • চারিত্রিক গুণাবলী

✅কি ভাবে ব্যক্তিত্ব গঠন করতে হয়ঃ

  • প্রখর বাস্তব বুদ্ধি, চতুরতা ও সহিষ্ণুতা থাকলে পুঁথিগত শিক্ষা না থাকা সত্তেও ব্যক্তিত্ব পূরণে বাধা হবে না। কারণ ব্যক্তিত্ব ধীরে ধীরে গড়ে উঠে। তার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়।
  • আমাদের সহজাত ক্ষমতাকে নমনীয় করে তুলতে হবে। নমনীয় করতে হবে তার ইচ্ছা, বাসনা, আবেগ আর কল্পনাকেও। আর এই পথধরেই ব্যক্তিত্বকে গঠন করতে হয়।

ব্যক্তিত্ব গঠনে যা যা করতে হবেঃ-

  • তর্ক করা যাবে না (যুক্তিপূর্ণ তর্ক হতে হবে)
  • কথার সাথে কাজের মিল রাখা
  • করুনার পাত্র হওয়া যাবেনা
  • শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে হবে
  • নিরপেক্ষভাবে কথা বলা
  • একান্ত গোপন বিষয় কাউকেই বলা যাবেনা
  • নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ে কাউকে নাক গলাতে দেয়া যাবেনা
  • অনধিকারচর্চা করা যাবে না
  • অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে
  • জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা
  • স্মার্ট হতে হবে-
  • পরিচ্ছন্ন
  • দক্ষ
  • চটপটে
  • বুদ্ধিমান
  • উপস্থিত বুদ্ধির অধিকারী
  • দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিক মত পালন করা
  • মাতাপিতার প্রতি
  • দেশের প্রতি
ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপদান:

ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়-একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কারণ ইচ্ছা ও সাধানার ফলে বহু ক্ষেত্রে সফলতা বয়ে এনেছে অনেক মানুষ। জ্ঞান ছাড়া অনেক কিছুই অসম্ভব। প্রথমে আমাদের পেশাদারিত্ব অর্জন করতে হবে। মানসিকাতা বড় করতে হবে। অনেক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে।

ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য প্রধান টি উপাদানঃ

⤵⤵⤵⤵⤵⤵⤵⤵⤵⤵⤵⤵⤵⤵

🔰প্রথম উপাদান জ্ঞান:

যার মধ্যে জ্ঞান আছে তার মধ্যে ব্যক্তিত্ব অবশ্যই থাকবে। একারণে ব্যক্তিত্বকে সুন্দর করতে হলে জ্ঞানের সাধনা করা অপরিহার্য। জ্ঞান সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়ার আগে আমাদেরকে তথ্য সম্পর্কে জানতে হবে।

জ্ঞান অর্জন করার পদ্ধতিঃ-

  • দোয়া ও প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে
  • অনুভব ও অনুমানের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা যায়
  • চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে
  • অভিজ্ঞতা থেকে
  • অতীত থেকে
  • জ্ঞানীদের সাথে মিশে
  • মূর্ত জগতকে দেখে
  • মূর্ত এবং বিমূর্ত জগত সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে
  • শুনে ও ভ্রমণ করে
  • বই পড়ে
  • টিভি দেখে (ডিসকভারি, পিস টিভি)
  • রেডিও শুনে (আমার, ফুর্তি)
  • পত্রিকা পড়ে (সব পত্রিকার শিক্ষা, বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সাইডটি বেশি করে)
  • নেট সার্স করে
  • ফেইসবুক
  • ব্লগিং
  • প্রশিক্ষণ নিয়ে
  • সমস্ত পেশার লোকদের সাথে মিশে

🔰দ্বিতীয় উপাদান পেশাদারিত্ব:

সঠিকভাবে কোন কাজ করতে পারলে আমরা তাকে পেশাদার বা অভিজ্ঞ হিসেবেই চিনি। তাই পেশাটিকে মানিয়ে নেয়ার জন্য পেশাদারিত্ব অর্জন করা দরকার। দেখি কিভাবে অর্জন করা যায়।

পেশাদারিত অর্জন করার পদ্ধতিঃ-

  • নিজের স্বপ্ন লেখা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা
  • নিজের পেশাকে বুঝার জন্য যে সেক্টরে কাজ করেন সেখানের দায়িত্বশীল/ লিডারদের সাথে সময় দেয়া
  • ডিসিপ্লিন/ সিস্টেম মানা
  • ট্রেনিং করা বা তথ্য সংগ্রহ করা
  • পেশার যে কোনো মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা
  • নিয়মিত অফিসে আসা
  • -উদ্যেগী হওয়া
  • পেশাটাকে ভালবাসা
  • অফিসিয়াল টুলস সাথে রাখা (পেড, কলম, ব্যাগ, লিগ্যাল পেপার, ব্রুশিয়ার, কেটালগ ইত্যাদি)
  • প্রপার ড্রেসকোড
  • ধৈর্য ধরা ও লেগে থাকা
  • প্রো-একটিভ, ক্রিয়েটিভ ও লিডার হওয়া
  • প্ল্যান করে কাজে নেমে পড়া
  • অভিজ্ঞতা অর্জন করা (কিভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়)
  • দীর্ঘদিন লেগে থেকে
  • পরিবেশ থেকে
  • প্রশিক্ষণ নিয়ে
  • অপরের ভুল বা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে
  • নিজের ভুল থেকে
  • সব ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে
  • স্ট্যামিনা/ কঠোর পরিশ্রম করে

🔰তৃতীয় উপাদান মানসিকতা:

ব্যক্তির মূল উৎস হচ্ছে মানসিকতা। বিবেক ও আবেগ দ্বারাই মানসিকতা গড়ে উঠে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বেরিয়েছে পৃথিবীর ৮৭% লোক তাদের এটিচুডের কারণে সফল হয়। আর এই এটিচুড দুই প্রকার।

যথা:-

১.রি-একটিভ (Negative – নেতিবাচক) Vs ২.প্রো-একটিভ (Positive – ইতিবাচক)

তাই প্রো-একটিভ হওয়ার জন্য পাঁচটি জিনিস অন্যকে দিতে হবে। যথা:-

১.Respect (সম্মান)

২.Influence (উৎসাহ)

৩.Help (সহযোগিতা)

৪.Gratitude (কৃতজ্ঞতা)

৫.Experience (অভিজ্ঞতা)

এই মানসিকতা ইতিবাচক করার জন্য একটি কার্যকরী থেরাপী দেয়া হল। যা জীবনের সব সময় যত বেশি ব্যবহার করবো তত বেশি উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ।

মানসিকতা বা স্বপ্ন বড় করার পদ্ধতি:-

১) ধর্ম অনুযায়ী ইবাদত করতে হবে

২) ইমাজিনেশন করতে হবে

৩) মেডিটেশন করতে হবে

৪) মটিভেশনাল বই পড়তে হবে

৫) অভিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং উচু ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষের সাথে মিশতে হবে

৬) যারা বড় বড় স্বপ্ন দেখে তাদের সাথে মিশতে হবে

৭) যারা গোছালো, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আছে, পজিটিভ, ক্রিয়েটিভ, ও প্রো-একটিভ তাদের সাথে মিশতে হবে

৮) বড় ও প্রশস্ত রাস্তায় যেতে হবে

৯)সমুদ্রে যেতে হবে

১০) পাহার পর্বতে যেতে হবে

১১) মটিভেশনাল সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি দেখতে হবে

১২) সেলিব্রেশন প্রোগ্রামে যেতে হবে

১৩) বড় সমাবেশ, মিছিল, মেরাথন ট্রেনিং ও বড় হাট-বাজারে যেতে হবে

১৪) ইনটারনেট সার্স করতে হবে

১৫) উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ব্লগ সাইটে ব্যপক ঘাটাঘাটি করতে হবে

🔰চতুর্থ উপাদান বিশ্বাস:

আত্ম-শক্তির প্রতি যাহার শ্রদ্ধা আছে, সে একদিন যত বিলম্বেই হউক না কেন,তরুর ন্যায় নিজের পায়ে নির্ভর করিয়া, গগনমার্গের দিকে শির উত্তোলন করিবেই। কিন্তু যাহার আত্ম-বিশ্বাস নাই, তাহার অন্য গুণ যতই থাকুক না কেন, চিরকাল আশ্রয়হীনা লতার ন্যায় শোচনীয় দুর্গতিগ্রস্ত হইয়া কাল কাটাইবে। বিশ্বাস হইতেছে আত্মার খাদ্য। বিশ্বাস হইতে চিন্তা এবং চিন্তা হইতে কার্যের উৎপত্তি। প্রত্যেক মানবের কার্যই তাহার বিশ্বাসের অনুরূপ হইবে। যখনই যে জাতি পৃথিবীতে যে বিষয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে,তখন শুধু তাহা আত্ম-বিশ্বাসের বলেই লাভ করিয়াছে।

 নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়ানোর পদ্ধতি:-

১) আমি সাহসী, আমি তেজস্বী , আমি সম্ভাবনাময়ী, আমি গুরুত্বপূর্ণ

২) আমি সক্ষম,

৩) আমি ব্যর্থ হতে চাইনা

৪) আমি আমার জীবনে সাফল্য আনবই

৫) আমাকে উঠতেই হবে

৬) আমার মাঝে বেশ কিছু ভালো জিনিস আছে

৭) আমার চেয়ে নিকৃষ্ট মানের মানুষও যখন পেরেছে আমি পারবনা কেনো ? আমি অবশ্যই পারব

৮) আমি সবকিছু সঠিক করতে চাই। আমি প্রাণপনে সবকিছু বদল করতে চাই

৯) আমি এবার আবার কাজে মনোযোগ দেবো। সব মনপ্রাণ নিয়োজিত করবো, এর মাঝখানে আনন্দ আর সুখ খুঁজে নেব

১০) এ কাজ আমি পারবো

১১) অন্য গুলোও পারবো।

১২) আমি পারবো না এমন কোন কাজই নেই।

🔰পঞ্চম উপাদান নিজেকে উপস্থাপনা:

প্রথমেই ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানোর জন্য কেন আমি সফল হব তা ভাবতে হবে। এই ভাবনার মাধ্যমেই নিজেকে সবার মাঝে উপস্থাপন করতে পারব। এটিই ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানোর প্রান্তিক পর্যায়। আসুন আমরা কেন সফল হব তা ভাবতে শিখি।

ব্যক্তির কিছু বৈশিষ্ট যেমন ক্ষমতা, মেধা, অভ্যাস, আবেগ, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ইত্যাদির সমন্বয়ে ব্যক্তিত্ব গঠিত হয়। যুগপৎ বুদ্ধির অনুশীলন ও আত্মার পরিচর্যাই মানুষকে প্রকৃত মনুষ্যত্বে ম-ন্ডিত করে। মন মুক্ত, স্বাধীন এবং সৃজনী ক্ষমতার অধিকারী।

সারা বিশ্বে চিন্তার জগতে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আলোড়ণ বিশেষভাবে ৪ টি সংজ্ঞা মনে রাখবেন।

যা সারা জীবনের জন্য সফলতার ক্ষেত্রে কাজে দিবে। যেমন:-

১.সফলতা:-

কার্যকর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ধৈর্য্য সহকারে কর্মের প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করাই হচ্ছে সফলতা।

২.ব্যর্থতা:-

কিছু নেতিবাচক ও ভুল কাজের ধারাবাহিক পূণরাবৃত্তি।

৩.উদ্দেশ্য:-

উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো কিছু করার সাধারণ অভিপ্রায়, যেটা সাধারণ ভাবে প্রকাশ করা হয়। যেমন:-আমি মাঠা কোমপানির মুন্সিগঞ্জ এরিয়ার ডিলারশীপ নেব।

৪.লক্ষ্য:-

লক্ষ্য হচ্ছে কোনো কিছু করার সুনির্দিষ্ট অভিপ্রায়।

৫.উন্নতি:-

উন্নতি হচ্ছে বর্তমানের কাজ এবং ভবিষ্যতের দৃঢ় প্রত্যয়।

নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপনা করার পদ্ধতি:-
  1. লার্নিং এন্ড শেয়ারিং করুন।
  2. সবসময় এবং অফিসে হাসি-খুশি থাকুন।
  3. নাম মনে রাখুন অর্থাৎ সবার সাথে মিশুন ও পরিচিত হোন।
  4. রিহার্সেল অনুষ্ঠানে কিছু বলার জন্য পূর্বেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।
  5. বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত হোন (সিবিএফ, আইএফসি, চাঁদেরহাট ইত্যাদি)।
  6. বিভিন্ন পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ব্লগ, পেইজ ও গ্রুপে লেখালেখি করুন।
  7. কারো প্রতি ঘৃণা, রাগ-ক্ষোভ, হিংসা-বিদ্বেষ ও গর্ব-অহংকার একদম করবেননা।
  8. কোনো প্রকার নেশা (ঘুম, মেয়ে,মদ) করবেননা।
  9. আপনি অনেক কিছু জানেন এটি জাহির করার মানষিকতা থেকে বিরত থাকুন।
  10. অতি আবেগ, রাগ, লজ্জা ও ভয় দূর করুন এবং স্বাভাবিকতা বজায় রাখুন।

এক কথায় বলতে গেলে ব্যক্তিত্ব হচ্ছে অভিজ্ঞতার ঝুলি, আর এই ঝুলিতে রয়েছে আমরা প্রতিনিয়ত যা বলি, যা করি, যা অনুভব করি, যা ভাবি, যা আশা করি, যা বিশ্বাস করি। সঙ্গে রয়েছে চলার পথে আমরা কোন পরিস্থিতিতে কী প্রতিক্রিয়া দেখাই সে সবকিছু।

আসুন একটি সুন্দর ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলি..যাহার মাধ্যমে দেশ ও জাতি গঠনের জন্য বড় ভুমিকা রাখতে পারি।

কিন্তু দুঃখের বিষয় এই রকম পোস্ট গুলোও কখনোই আমরা পুরোপুরি পড়িনা বা প্রিয় মানুষগুলো মাঝে শেয়ার করিনা।

আর একটি সুন্দর ব্যক্তিত্ব গঠন করা তো আরও অনেক কঠিন কাজ।

যাঁরা কষ্ট করে শেষ পযন্ত পড়েছেন তাঁরা অবশ্যই ব্যক্তিত্ব গঠনের অনেক ধাপ এগিয়ে আছেন।৷

সবার জন্য শুভ কামনা রইল…!!!

পোষ্টটি ফেইসবুকে শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন ...